Goodman Travels

অবশেষে স্বপ্নের কলেজে ভর্তি হচ্ছে রনি

রাজশাহী মহানগর প্রতিনিধিঃ-দেশ সেরা রাজশাহী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া অনেকটাই সোনার হরিণের মতো। এ কলেজে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছিল না মেধাবী শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম রনি।

মাত্র ৫ হাজার টাকা না থাকায় রোববার কলেজে ভর্তি হতে এসে ফিরে যেতে হয় তাকে। এ নিয়ে সোমবার সংবাদ প্রকাশ হয় দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজপোর্টাল জাগো নিউজে। মুহূর্তেই খবরটি ভাইরাল হয়ে যায়। দেশ-বিদেশ থেকে রনিকে সহায়তার জন্য যোগাযোগ করেন হৃয়বানরা।

খবরটি চোখে পড়ে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমানের। তিনি দুপুরের দিকে রনিকে ডেকে নেন নিজ দপ্তরে। তাৎক্ষণিকভাবে তার ভর্তির ব্যবস্থা করেন। তাকে সাধ্যমতো সহায়তারও আশ্বাস দেন তিনি। ওই সময় কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা. আব্দুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

রবিউল ইসলাম রনি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের অনাথ শিমলা এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরেই তার বাবা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পথে পথে ঘুরছেন। স্বামী-সংসার নিয়ে চিন্তায় ভারসাম্য হারিয়েছেন মা রহিমা বিবিও।

নানা টানাপোড়েনের ভেতরেই উপজেলার কালীগ্রাম দোডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রনি এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়ায় আবেদন করে রাজশাহী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বিবেচিত হয়েছে রনি।

রোববার থেকে একাদশ শ্রেণিতে শুরু হয়েছে ভর্তি প্রক্রিয়া। খবর পেয়ে ওইদিনই প্রতিবেশী সোহেল রানার সহায়তায় রাজশাহী পৌঁছায় রনি। ভর্তির জন্য কাগজপত্র নিয়ে কলেজেও যায়। কিন্তু ভর্তির জন্য নির্ধারিত খরচ জোগাড় না হওয়ায় ফিরে আসতে হয় খালি হাতে। এখন স্বপ্নের কলেজে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ায় আবেগাপ্লুত রবিউল ইসলাম রনি।

সে জানায়, তার আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তাকে বাড়িতে থেকেই হয়তো গ্রামের কোনো একটা কলেজে পড়তে হতো। সেই পড়ালেখা চালিয়ে নেয়াও অসম্ভব। কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। রাজশাহী কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা হয়ে গেছে। অধ্যক্ষ স্যার ডেকে তার ভর্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মঙ্গলবার ভর্তি হয়েই বাড়ি ফিরবে সে।

কষ্ট করে পড়াশোনা করে নিজের লক্ষে পৌঁছাতে চায় রনি। স্বপ্ন পূরণের এ ধাপে সহায়তা করায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় সে।

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান বলেন, শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসল মানদণ্ড হলো আমাদের যারা শিক্ষার্থী, আমরা তাদের কল্যাণে কতটুকু কি করছি। রাজশাহী কলেজ শ্রেষ্ঠ মানে সবাইকে নিয়েই শ্রেষ্ঠ, সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ছাত্রনেতা সবাই এই শ্রেষ্ঠত্বের অংশীদার।

আমরা চাই, অর্থের অভাবে দরিদ্র ঘরের সন্তান যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। তার লেখাপড়ার খরচ রাজশাহী কলেজ বহন করবে।