Goodman Travels

দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ লালন শাহ সেতুর অর্ধশতাধিক বৈদ্যুতিক বাল্ব নষ্ট , দূর্ঘটনার আশংকা

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ইয়াসিন শেখ : দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ লালন শাহ সেতু, পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রীজের অদূরে পদ্মা নদীর উপর নির্মিত সেতু।
লালন শাহ সেতুটি কুষ্টিয়া ও পাবনার জেলার সংযোগস্থল ও হার্ডিং ব্রীজসহ জোড়া সেতু হওয়ায় প্রচুর মানুষ এখানে বেড়াতে আসে। প্রতিদিন শতশত যানবাহন এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে।

কিন্তু দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ এই সেতুর দুইপাশের দুইশতাধিক বাল্বের মধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক বাল্বই অচল হয়ে পড়েছে।

সেতুর দুপাশের মাঝে মাঝে বাল্বগুলো অচল হওয়ায় সন্ধ্যার পরেই সেতুর ওপর নেমে আসে অন্ধকার। অনেক মোটরসাইকেল আরোহী রাত হলে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালায় এই সেতুর ওপর। সেই সুবাধে সেতুর ওপর মাঝে মধ্যেই দূর্ঘটনার খবর শোনা যায়। সেতুর ওপর অন্ধকার থাকায় উঠতি বয়সি ছেলে মেয়েদের নানা ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ডের চিত্রও দেখা যায়। সেতুর বৈদ্যুতিক বাল্বগুলো নষ্ট হওয়াতে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করে ভুক্তভোগীরা।

কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির অভাবেই বৈদ্যুতিক বাল্বগুলোর এমন বেহাল দশা বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা ।
তবে কর্তৃপক্ষ এখনো এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। দ্রুত এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ, কে, এম শামসুজ্জোহা জানান, সেতুর বাল্বগুলোর অচল অবস্থার বিষয়টি ইতিমধ্যে আমাদের নজরে এসেছে।
ঈদের আগে আমরা সেতু পর্যবেক্ষণ করেছি। সরকারী বরাদ্দ পেলে খুব দ্রুতই এ সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করা হবে।

তিনি আরও বলেন ইতিমধ্যে উল্লেখিত সমস্যা গুলো সমাধানের জন্য আমরা সেতুর ওপর সিসি ক্যামেরা ও মাইক লাগানোর বিষয়টি হাতে নিয়েছি। আগামী বছরের নতুন বাজেট পেলেই এটাও বাস্তবায়ন করা হবে।

উল্লেখ্য লালন শাহ সেতুটি ২০০১ সালের ১৩ জানুয়ারী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলে সেতুটির নির্মাণ শুরু হয় ২০০৩ সালে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১.৮ কিমি এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার। চীনের প্রতিষ্ঠান মেজর ব্রীজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো এর নির্মাণ কাজ করেন। মোট ১৭ টি স্প্যনের এই সেতুটি দুই লেন বিশিষ্ট।

সেতুর পূর্ব পাশে অবস্থিত (পাকশী, ঈশ্বরদী‌, পাবনা) এবং সেতুর পশ্চিম পাশে (ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া) সেতুটি তৈরীর ফলে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ জেলার লোকেদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হয়েছে। এই সেতু বঙ্গবন্ধু সেতু অনুরুপ বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বিতীয় সড়ক সেতু। লালন শাহ্ সেতু বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং পরিবহন ব্যবস্থা প্রসারে অনেক অবদান রেখে চলেছে।