অধিনায়কত্বের ক্যারিয়ার দারুণভাবে শুরু করেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ২০২৩ সালের নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিলেটে নেতৃত্বের অভিষেক টেস্টে খেলেছিলেন তিন অঙ্কের জাদুকরী ইনিংস। এরপর ছন্দ হারিয়ে ফেলেন। ছন্দহীন নাজমুলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মিরপুরের উইকেট হাতের তালুর মতো পরিচিত নাজমুলের। অথচ সে উইকেটের আচরণ বুঝতে ব্যর্থ হন। একাদশ সাজান এক পেসার নিয়ে। টস জিতে আনকোরা উইকেটে ব্যাটিং করেন। ফল ৭ উইকেটে হার। অসহায় লড়াইয়ের ম্যাচে টাইগার অধিনায়কের ব্যাট থেকে রান বেরিয়েছে ৭ ও ২৩। অধিনায়ক নাজমুল ৯ টেস্টের ১৭ ইনিংসে রান করেছেন ২৫.৭৬ গড়ে ৪৩৮। সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি ১টি করে। ক্যারিয়ারে ৩২ টেস্টে রান করেছেন ২৮.৬৮ গড়ে ১৭২১। সেঞ্চুরি ৫টি, হাফসেঞ্চুরি ৪টি। পরিসংখ্যানই জানাচ্ছে, কতটা চাপে রয়েছেন অধিনায়ক। এজন্যই হয়তো ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর তিনি আর অধিনায়ক থাকতে চাইছেন না, ‘দেখা যাক কী হয়, কারণ এখনো বিসিবি সভাপতি কোনো কিছু জানাননি।’ নাজমুল যে দায়িত্ব ছাড়তে চাইছেন, বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম বলেন, ‘হ্যাঁ, শুনেছি। যদি সে দায়িত্ব ছেড়ে দেয়, তাহলেও নাজমুলের সাথে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।’ ওমরাহ হজ শেষে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের আগামীকাল ঢাকায় ফেরার কথা।
নতুন অধিনায়ক কে
নাজমুলের লম্বা রেসের ঘোড়া হতে চান বাংলাদেশের ক্রিকেটের। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের চাপে কিছুটা ছিটকে পড়েছেন লড়াইয়ের রাস্তা থেকে। বিসিবি তাকে গত ফেব্রুয়ারিতে এক বছরের জন্য অধিনায়ক মনোনয়ন করে। তার নেতৃত্বে টি- ২০ বিশ্বকাপ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম রাউন্ডের ব্যারিয়ার টপকালেও দ্বিতীয় রাউন্ডে জয়ের দেখা পায়নি। ক্রিকবাজ জানাচ্ছে, গত জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-২০ বিশ্বকাপের পর তিনি শর্টার ভার্সন (টি-২০)- এর নেতৃত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন। বিসিবি রাজি হয়নি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের পর ভারতের কাছে হেরে যায় টেস্ট ও টি-২০ সিরিজে। ঘরের মাঠে অনভিজ্ঞ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর তিন ফরম্যাটেই নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। নাজমুল যদি দায়িত্ব ছেড়ে দেন, তাহলে অধিনায়ক হবেন কোন ক্রিকেটার? তালিকায় মেহেদি হাসান মিরাজ, লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ, তাওহিদ হৃদয়ের নাম রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, ক্রিকেট বোর্ড চাইছে তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক। অধিনায়ক নাজমুল ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচে নেতৃত্ব দেন। ৪৫ ওয়ানডেতে ৩৩.২৯ গড়ে ১৩৬৫ রান করেন। ওয়ানডেতে ৫২ গড়ে ১ সেঞ্চুরি ও ২ হাফসেঞ্চুরিতে ৩৬২ রান করেন। ৪৯ টি-২০ ম্যাচে ২২.৮৫ গড়ে ৯৬০ রান করেন। অধিনায়ক হিসেবে রান করেছেন ১৮.৭৬ গড়ে ৩৯৪। নয় টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছে তিনটি এবং হার ছয়টিতে। নয় ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছেন তিনটি, হেরেছেন ছয়টি। ২৪ টি-২০ দিয়ে জয় ১০ এবং আর ১২।